সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
দেশ দিগন্ত ২৪

প্রায় দুই লক্ষ মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তা

বেহাল জালালপুর সড়ক চরম ভোগান্তিতে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, দ্রুত সংস্কারের দাবি



বেহাল জালালপুর সড়ক চরম ভোগান্তিতে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ। পানির নিচে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জালালপুর, লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের কটিয়াদী উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু ভাঙা ইট ফেলে দায়সারা সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং ইটগুলো রোলিং না করায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত রোগী এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের জন্য সড়কটি এখন আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা পথে চলাচলের কারণে রোগীদের শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গণপরিবহন চলাচলও কমে গেছে। অনেক সিএনজি ও অটোরিকশা চালক এই পথে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেককে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, আর যারা তা পারছে না, তাদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হচ্ছে।

অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে সপ্তাহে দুইবার পর্যন্ত গাড়ি মেরামত করতে হয়। বড় বড় গর্তে পড়ে গাড়ি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চান না। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

এদিকে কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারও এই সড়কের পাশে অবস্থিত। কৃষকরা জানান, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বাজারে সবজি আনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বাইরের জেলা থেকে আসা অনেক পাইকারও এখন আর এই সড়ক ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, কটিয়াদী উপজেলা সদরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, এবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত সড়কটির সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এলাকাবাসী ও পথচারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

দেশ দিগন্ত ২৪

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


বেহাল জালালপুর সড়ক চরম ভোগান্তিতে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর-লোহাজুরী সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ। পানির নিচে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জালালপুর, লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের কটিয়াদী উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু ভাঙা ইট ফেলে দায়সারা সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরং ইটগুলো রোলিং না করায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন শত শত রোগী এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের জন্য সড়কটি এখন আতঙ্কের নাম। ভাঙাচোরা পথে চলাচলের কারণে রোগীদের শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গণপরিবহন চলাচলও কমে গেছে। অনেক সিএনজি ও অটোরিকশা চালক এই পথে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অনেককে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, আর যারা তা পারছে না, তাদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হচ্ছে।

অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে সপ্তাহে দুইবার পর্যন্ত গাড়ি মেরামত করতে হয়। বড় বড় গর্তে পড়ে গাড়ি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চান না। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

এদিকে কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজারও এই সড়কের পাশে অবস্থিত। কৃষকরা জানান, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বাজারে সবজি আনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বাইরের জেলা থেকে আসা অনেক পাইকারও এখন আর এই সড়ক ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, কটিয়াদী উপজেলা সদরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজ, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, এবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত সড়কটির সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এলাকাবাসী ও পথচারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


দেশ দিগন্ত ২৪

সম্পাদক:
মোবারক হোসেন


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বেহাল জালালপুর সড়ক চরম ভোগান্তিতে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, দ্রুত সংস্কারের দাবি
0:00 / 0:00
1x