রাজনীতিতে ডিগবাজি নাকি রাতারাতি আদর্শ পরিবর্তন? পদ-পদবি বাগিয়ে নেওয়ার চতুর কৌশলে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন দল ও নিষিদ্ধ সংগঠনের অবাধ বিচরণ করা আল শাহরিয়ার মাছুম নামে এক চতুর নেতার নাম। কখনো ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ’, কখনো জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইউনিয়ন সমন্বয়ক টিমের সদস্য, আর বর্তমানে সদ্য ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ সহ-সভাপতির পদ—সবক্ষেত্রেই তার অবাধ উপস্থিতি রাজনৈতিক সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহরিয়ার মাছুম প্রথমে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভুঁইফোড় সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ’- কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সেখানে বেশ কিছুদিন নিজের অবস্থান শক্ত করার পর জাতীয় রাজনীতিতে পরিস্থিতি বুঝে ভোল পাল্টান তিনি। গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে-২০২৬ তিনি স্থানীয় সংসদীয় আসন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে কটিয়াদী উপজেলা জালালপুর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থীর প্রচার টিমের সমন্বয়ক সদস্য হিসেবে একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে মাঠে ময়দানে সরাসরি কাজ করেন। সে সময় ধানের শীষের পোস্টার সাঁটানো থেকে শুরু করে মিছিলেও তাকে অগ্রভাগে দেখা গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই চতুরতার সাথে আবারও নিজের পরিচয় ও বলয় বদলে ফেলেন তিনি। সবশেষ নব-ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি রীতিমতো সবাইকে চমকে দিয়ে 'সহ-সভাপতি' পদ বাগিয়ে নেন।আরও জানা যায়, আল শাহরিয়ার মাছুম ও শান ভূইয়া নামে আরেকজন গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। যা জালালপুর আনন্দ বাজারে অবস্থিত আ.লাীগ কার্যালয় ভাংচুরও করেন তারা। একজন ব্যক্তি কীভাবে এত স্বল্প সময়ে ও বিপরীতমুখী আদর্শের দলে যুক্ত থেকেও জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে পদায়ন পেলেন, তা নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগ ও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে।একাধিক কমিটিতে থাকার বিষয় জানতে আল শাহরিয়ার মাছুমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি, তবে তিনি নিজ ভেরিফাই ফেইসবুক পোস্টে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ লেখে পোস্ট দেন।এই বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি তশরিফুল হাসিব বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত নয়। বিস্তারিত জেনে পরে জানাচ্ছি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই।কমিটির বিষয় জানতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ারুল হোসেন মোল্লা সুমনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শ্যামল ভূইয়া বলেন, সে কোন কমিটিতে আছে বা নাই এগুলোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তাকে চিনতে পারতেছি না।