কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বহু সাবেক শিক্ষক তাঁদের মেধা, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক দাখিল পরীক্ষার ফলাফল সেই ঐতিহ্য ও সুনামকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪১ জন এবং কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১০ জন। পাসের হার ২৪.৩৯ শতাংশ।
অথচ মাত্র এক বছর আগেও চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন
অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৯০.২৪ শতাংশ থেকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার নেমে এসেছে ২৪.৩৯ শতাংশে। এমন আকস্মিক ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হলে তিনি ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্র পরিবর্তন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
তাছাড়া এবারের পুরো ব্যাচটিই তুলনামূলক দুর্বল ছিল।
এ ছাড়া তিনি দুইজন শিক্ষকের মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টিও ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এটি একটি দরিদ্র এলাকা। শিক্ষার্থীরা সকালে নাস্তা করে মাদ্রাসায় আসে; কিন্তু দুপুরের টিফিন নিয়ে আসার সামর্থ্য অনেকের নেই। ফলে বিরতির সময় তারা বাড়িতে চলে যায়।
তবে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে,
বেলা প্রায় ৩টার দিকে শিক্ষকদের সামনেই কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যাগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের থামাতে বা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
আরও দেখা যায়, ওই সময় মাদ্রাসার প্রায় সবকয়টি শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীশূন্য। শিক্ষকদের একটি অংশকে শিক্ষক মিলনায়তনে বসে গল্প-আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাঁর বক্তব্য ছিল—“ছাত্ররা চলে গেছে, তাই ক্লাস হচ্ছে না।”
প্রশ্ন হলো,
শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত ক্লাস ছেড়ে চলে যায়, তাহলে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ক্লাসে ধরে রাখা এবং পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে
সরেজমিনে কয়েকজন শিক্ষকের অনুপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জানান, তিনজন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন।
তবে একই সময়ে তিনজন শিক্ষক ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী একই সময়ে এমন ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিও কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তবে এটিও সত্য যে, ওই সময় অনেক শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ফলে শুধু শিক্ষক সংকটকে ফলাফল বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেসব বিষয়ে ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নোটিশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
সভাপতির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অনেকে। তবে তাঁদের দাবি—শুধু নোটিশ দিয়ে বিষয়টি শেষ না করে বাস্তব কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এক বছরে এভাবে ধসে পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।
যদি কেন্দ্র পরিবর্তনই বড় কারণ হয়, তাহলে কেন শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হলো না?
যদি পুরো ব্যাচ দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, মডেল টেস্ট ও অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা কেন যথেষ্ট কার্যকর হলো না?
যদি শিক্ষক সংকট থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাঠদান কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
আর যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে থাকে, তাহলে উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের ফিরিয়ে এনে ক্লাসে রাখার দায়িত্ব পালন করেছেন কি না সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
কারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকবে কি না, শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করবেন কি না এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এসবই একটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকেন, আর শিক্ষার্থীরা যদি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যায়—তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরাই।
বেতন-ভাতা পাওয়া একজন শিক্ষকের অধিকার; কিন্তু তার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও তাঁর কর্তব্য।
ফেকামারা মাদ্রাসার মতো ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার শিক্ষার পরিবেশ হারাবে এটি মেনে নেওয়া যায় না।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
২০২৬ সালের ফলাফল বিপর্যয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শিক্ষক ছুটি ও অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হোক।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো হোক।
পরিচালনা কমিটিকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব করা হোক।
কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক কিংবা স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ না পান—তা নিশ্চিত করা হোক।
কারণ, একটি মাদ্রাসার ভবন যতই চকচকে হোক, শ্রেণিকক্ষ যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীশূন্য থাকে, তাহলে সেই ভবনের কোনো অর্থ নেই।
ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা কটিয়াদীর মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়,এখন প্রয়োজন জবাবদিহিতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত পাঠদান।
কারণ, আজকের অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বহু সাবেক শিক্ষক তাঁদের মেধা, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক দাখিল পরীক্ষার ফলাফল সেই ঐতিহ্য ও সুনামকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪১ জন এবং কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১০ জন। পাসের হার ২৪.৩৯ শতাংশ।
অথচ মাত্র এক বছর আগেও চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন
অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৯০.২৪ শতাংশ থেকে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার নেমে এসেছে ২৪.৩৯ শতাংশে। এমন আকস্মিক ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হলে তিনি ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান কারণ ছিল কেন্দ্র পরিবর্তন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
তাছাড়া এবারের পুরো ব্যাচটিই তুলনামূলক দুর্বল ছিল।
এ ছাড়া তিনি দুইজন শিক্ষকের মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টিও ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এটি একটি দরিদ্র এলাকা। শিক্ষার্থীরা সকালে নাস্তা করে মাদ্রাসায় আসে; কিন্তু দুপুরের টিফিন নিয়ে আসার সামর্থ্য অনেকের নেই। ফলে বিরতির সময় তারা বাড়িতে চলে যায়।
তবে সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে,
বেলা প্রায় ৩টার দিকে শিক্ষকদের সামনেই কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যাগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা চলে গেলেও উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের থামাতে বা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
আরও দেখা যায়, ওই সময় মাদ্রাসার প্রায় সবকয়টি শ্রেণিকক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীশূন্য। শিক্ষকদের একটি অংশকে শিক্ষক মিলনায়তনে বসে গল্প-আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাঁর বক্তব্য ছিল—“ছাত্ররা চলে গেছে, তাই ক্লাস হচ্ছে না।”
প্রশ্ন হলো,
শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত ক্লাস ছেড়ে চলে যায়, তাহলে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ক্লাসে ধরে রাখা এবং পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে
সরেজমিনে কয়েকজন শিক্ষকের অনুপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জানান, তিনজন শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন।
তবে একই সময়ে তিনজন শিক্ষক ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী একই সময়ে এমন ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিও কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তবে এটিও সত্য যে, ওই সময় অনেক শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—ফলে শুধু শিক্ষক সংকটকে ফলাফল বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
পরিচালনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেসব বিষয়ে ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নোটিশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
সভাপতির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অনেকে। তবে তাঁদের দাবি—শুধু নোটিশ দিয়ে বিষয়টি শেষ না করে বাস্তব কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এক বছরে এভাবে ধসে পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়।
যদি কেন্দ্র পরিবর্তনই বড় কারণ হয়, তাহলে কেন শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই নতুন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হলো না?
যদি পুরো ব্যাচ দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, মডেল টেস্ট ও অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা কেন যথেষ্ট কার্যকর হলো না?
যদি শিক্ষক সংকট থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাঠদান কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে?
আর যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দিয়ে থাকে, তাহলে উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের ফিরিয়ে এনে ক্লাসে রাখার দায়িত্ব পালন করেছেন কি না সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
কারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকবে কি না, শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করবেন কি না এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এসবই একটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিং, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার নানা আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকেন, আর শিক্ষার্থীরা যদি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যায়—তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরাই।
বেতন-ভাতা পাওয়া একজন শিক্ষকের অধিকার; কিন্তু তার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করাও তাঁর কর্তব্য।
ফেকামারা মাদ্রাসার মতো ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার শিক্ষার পরিবেশ হারাবে এটি মেনে নেওয়া যায় না।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
২০২৬ সালের ফলাফল বিপর্যয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।
শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শিক্ষক ছুটি ও অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হোক।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো হোক।
পরিচালনা কমিটিকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব করা হোক।
কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক কিংবা স্থানীয় প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ না পান—তা নিশ্চিত করা হোক।
কারণ, একটি মাদ্রাসার ভবন যতই চকচকে হোক, শ্রেণিকক্ষ যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীশূন্য থাকে, তাহলে সেই ভবনের কোনো অর্থ নেই।
ফেকামারা কামিল মাদ্রাসা কটিয়াদীর মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়,এখন প্রয়োজন জবাবদিহিতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত পাঠদান।
কারণ, আজকের অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে আগামী দিনের শিক্ষার্থীদের।
