মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
দেশ দিগন্ত ২৪

কটিয়াদীতে মিড-ডে মিলে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ



কটিয়াদীতে মিড-ডে মিলে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের বনরুটি জাতীয় খাবার পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পর নষ্ট রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলেও খাবারের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৫২নং চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড-ডে মিলের খাবার হিসেবে বনরুটি জাতীয় এসব খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী রুটিতে কালো আস্তরণ ও  রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে নষ্ট রুটিগুলো ফেরত নেওয়া হয়।

অভিভাবক শাহ পরান, মো. ইমরান ও আব্দুল্লাহ হিল ওয়ানি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি উদ্যোগে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলেও এর মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। রুটির প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর উল্লেখ থাকলেও ১৩ সেপ্টেম্বর বিতরণের সময়ই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে।

তারা বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। খাবার সংরক্ষণ, পরিবহণ কিংবা সরবরাহের কোনো পর্যায়ে গাফিলতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুইজন  শিক্ষার্থীর মা মোছা. স্বপ্না আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই বিদ্যালয়ে শিশুদের কাঁচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত রুটি , কম সিদ্ধ ও নষ্ট ডিম দেওয়া হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, রোববার শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণের পর কিছু রুটি নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়। খাবার বিতরণের পর বিষয়টি নজরে আসে। পরে নষ্ট রুটিগুলো সংগ্রহ করে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ, মেয়াদ ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে তদারকি করা হোক। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ৫২ নম্বর চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নষ্ট রুটি দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। রুটিগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে। যারা খাবার সরবরাহ করে, তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান,  বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশ দিগন্ত ২৪

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


কটিয়াদীতে মিড-ডে মিলে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের বনরুটি জাতীয় খাবার পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার একদিন আগেই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পর নষ্ট রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলেও খাবারের মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৫২নং চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড-ডে মিলের খাবার হিসেবে বনরুটি জাতীয় এসব খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী রুটিতে কালো আস্তরণ ও  রুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে নষ্ট রুটিগুলো ফেরত নেওয়া হয়।

অভিভাবক শাহ পরান, মো. ইমরান ও আব্দুল্লাহ হিল ওয়ানি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি উদ্যোগে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ করা হলেও এর মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। রুটির প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর উল্লেখ থাকলেও ১৩ সেপ্টেম্বর বিতরণের সময়ই রুটিতে কালো আস্তরণ ও দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে।

তারা বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। খাবার সংরক্ষণ, পরিবহণ কিংবা সরবরাহের কোনো পর্যায়ে গাফিলতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুইজন  শিক্ষার্থীর মা মোছা. স্বপ্না আক্তার অভিযোগ করে বলেন, প্রায়ই বিদ্যালয়ে শিশুদের কাঁচা কলা, দুর্গন্ধযুক্ত রুটি , কম সিদ্ধ ও নষ্ট ডিম দেওয়া হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, রোববার শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়ার সময় তিনি বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা সদরে ছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণের পর কিছু রুটি নষ্ট ও দুর্গন্ধযুক্ত দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়। খাবার বিতরণের পর বিষয়টি নজরে আসে। পরে নষ্ট রুটিগুলো সংগ্রহ করে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা মিড-ডে মিলের খাবারের গুণগত মান, সংরক্ষণ, মেয়াদ ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে তদারকি করা হোক। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ৫২ নম্বর চরআলগী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নষ্ট রুটি দেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। রুটিগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে। যারা খাবার সরবরাহ করে, তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান,  বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দেশ দিগন্ত ২৪

সম্পাদক:
মোবারক হোসেন


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কটিয়াদীতে মিড-ডে মিলে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ
0:00 / 0:00
1x